-->

বিদ্যোৎসাহিনী মঞ্চের ইতিহাস

বিদ্যোৎসাহিনী মঞ্চের ইতিহাস

বিদ্যোৎসাহিনী মঞ্চ

সিংহ পরিবারের ধনী বাঙালি কালীপ্রসন্ন সিংহ তাঁর বাড়িতে এই রঙ্গমঞ্চ প্রতিষ্ঠা করেন। ১৮৫৩ খ্রিস্টাব্দে কালীপ্রসন্ন সিংহ বিদ্যোৎসাহিনী সভা নামে একটি সাহিত্য সভা গঠন করেন। এই সভার সঙ্গে ১৮৫৬ খ্রিস্টাব্দে বিদ্যোৎসাহিনী রঙ্গমঞ্চ সংযুক্ত হয়। ১৮৫৭ খ্রিস্টাব্দের ১১ এপ্রিল এই রঙ্গমঞ্চের উদ্বোধন হয়েছিল। প্রথম নাটক রামনারায়ণ অনুদিত ‘বেণীসংহার’। কালীপ্রসন্ন নিজে এই নাটকে প্রশংসনীয় অভিনয় করেন। এই অভিনয়ের প্রশংসায় অনুপ্রাণিত হয়ে কালীপ্রসন্ন ১৮৫৭ খ্রিস্টাব্দে নিজে ‘বিক্রমোর্বশী’ অনুবাদ করেন। ঐ বছরেই ২৪ নভেম্বর বিদ্যোৎসাহিনী মঞ্চে ‘বিক্রমোর্বশী’ অভিনীত হয়। কালীপ্রসন্ন পুরুরবার ভূমিকায় অভিনয় করেন। ‘বেণীসংহার’ নাটকে কালীপ্রসন্ন ছাড়াও যাঁরা অভিনয় করেছিলেন তাঁরা হলেন মহেন্দ্ৰনাথ মুখোপাধ্যায়, মহেন্দ্রনাথ ঘোষ, ক্ষেত্রমোহন সিংহ, মণিমোহন সরকার প্রমুখ। একবার কালীপ্রসন্ন ‘বিক্রমোর্বশী’ নামে একটি মৌলিক পৌরাণিক নাটক রচনা করেন। এটি ঠিক অভিনয় হয়নি। তবে ১৮৫৮ খ্রিস্টাব্দে ৫ জুন বিদ্যোৎসাহিনী মঞ্চেও আভিনায়িক পাঠ হয়েছিল, সঙ্গে যন্ত্রসংগীত এবং গানও হয়েছিল।

এরপর কালীপ্রসন্নের ‘সাবিত্রী সত্যবান’ অভিনীত হয়। শেক্সপীয়রের নাটক যেভাবে পাঠ করা হয় এটিও সেইভাবে পাঠ করা হয়েছিল। ড. সুকুমার সেন একে ‘নাট্যোচিত আবৃত্তি’ বলে অনুমান করেন। এরপর ১৮৫৯ খ্রিস্টাব্দে ‘মালতীমাধব’ নাটক অভিনীত হয়। অভিনয়ে পারদর্শিতা অর্জনের জন্য অভিনেতারা যথেষ্ট পরিশ্রম করতেন।

কালীপ্রসন্ন এখানে নতুন ধরনের ‘আভিনায়িক পাঠ’ চালু করেন। ১৮৫৯-এর পরে এখানে আর কোন অভিনয়ের খবর পাওয়া যায় না। এই থিয়েটারের সাফল্যই প্রতাপচন্দ্র ও ঈশ্বরচন্দ্র সিংহ এবং বাবু যতীন্দ্রমোহন ঠাকুর প্রভৃতিকে বেলগাছিয়া নাট্যশালা স্থাপনে প্রণোদিত করে। এই মঞ্চে দুই বৎসর পর্যন্ত স্থায়ী হয়েছিল।