-->

জীবনে ও সৃজনে কাশীতীর্থে শৈলজানন্দ - ড. শ্রীকান্ত কর্মকার

জীবনে ও সৃজনে কাশীতীর্থে শৈলজানন্দ - ড. শ্রীকান্ত কর্মকার
জীবনে ও সৃজনে কাশীতীর্থে শৈলজানন্দ গ্রন্থটির বিশেষত্ব:

 “পুণ্যভূমি বারাণসী           বেষ্টিত বরুণা অসি
           যাহে গঙ্গা আসিয়া মিলিতা।"
ড. শ্রীকান্ত কর্মকারের 'জীবনে ও সৃজনে কাশীতীর্থে শৈলজানন্দ ' গ্রন্থটিতে কাশী নগরী জীবন্ত ও প্রাণবন্ত হয়ে উঠেছে।

    পৃথিবীর প্রাচীনতম জীবিত শহর হল কাশী। কাশী এক তীর্থ নগরী। যা গঙ্গার তীরে অবস্থিত। বহুযুগ ধরে দেশী-বিদেশী সব ধরনের মানুষ কাশীতে আসেন। তাঁদের মধ্যে অনেকে আবার এই নগরীতে রয়ে যান।  তীর্থযাত্রী ছাড়াও এখানে বিদ্যার্থীরা আসে। ধর্ম আর বিদ্যা কাশীর গরিমা। মন্দির এখানে অগনতি। ঘরে-ঘরে মন্দির এখানে। শিক্ষা প্রতিষ্ঠানও এখানে ভরপুর। কাশী বিদ্যাপুরী।  বিদেশিরা কাশী নগরীকে ‘সিটি অফ লাইট’ বলে থাকেন। কাশীতে অবস্থিত বিশ্বনাথ মন্দির, অন্নপূর্ণা মন্দির, কাল ভৈরব মন্দির, সারনাথ বৌদ্ধ স্তূপ,  সংকট মোচন মন্দির, তুলসী মানস  মন্দির,  ধর্মশালা, পঞ্চগঙ্গা ঘাট, ললিতা ঘাট, মণিকর্ণিকা ঘাট, হরিশ্চন্দ্র ঘাট, দশাশ্বমেধ ঘাট ও ঘাটের গঙ্গা আরতি, অহল্যাবাঈ ঘাট প্রভৃতি ঘাট। কাশীর ঘাটে নৌকার সারি,  ঘাটের বড় বড় ছত্র, টোল, শাস্ত্র অধ্যয়ন কেন্দ্র, আশ্রম, বিদ্যালয়, কাশী হিন্দু বিশ্ববিদ্যালয়, বিশ্ববিদ্যালয়ের বিশ্বনাথ মন্দির, রামনগর দুর্গ, দুর্গা বাড়ি, গোধূলিয়া প্রভৃতি স্থান গুলি দেখার মতো। কাশী মানুষের নয়নের মণি। যার সাহায্যে জগতের অপরূপ দৃশ্য লক্ষ করা যায়। কাশীর অনুভূতি চিরকালীন সুগন্ধীর মতো। যত সময় অতিবাহিত হয় সুগন্ধী তত বেশি চারিদিকে ছড়িয়ে পড়ে। বারাণসীতে প্রতিষ্ঠিত কাশী হিন্দু বিশ্ববিদ্যালয় এশিয়ার প্রাচীনতম আবাসিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলির মধ্যে একটি অন্যতম শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান। যাকে প্রায় সর্বভাষার গরীয়সী কেন্দ্র বলা হয়ে থাকে। যার ঐতিহ্য সমগ্র বিশ্বে ছড়িয়ে রয়েছে। প্রবাসী বাঙালিদের মধ্যে সাহিত্যের প্রতি আকর্ষণ এখনও অটুট রয়েছে। সন্ধ্যা নামলেই এখনও গোধূলিয়া মোড়ের কাছে জঙ্গমবাড়ি এলাকায় অবস্থিত ‘বঙ্গীয় সাহিত্য সমাজ লাইব্রেরি’তে সাহিত্যানুরাগীদের ভিড় জমে ওঠে।   
বাঙালি লেখকের কলমে এবং চলচ্চিত্র পরিচালকের ক্যামেরা’য় বেনারসের অলি-গলি, ঘাটের চিত্র, বিশ্বনাথ মন্দির, চৌখাম্বা, ডালমুন্ডি মার্কেট, কাশী হিন্দু বিশ্ববিদ্যালয় প্রভৃতি সুগভীর আলোড়ন সৃষ্টি করেছে। বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের ‘পথের পাঁচালি’, ‘অপরাজিত’; নিমাই ভট্টাচার্যের ‘গোধূলিয়া’; সত্যজিৎ রায়ের চলচ্চিত্র ‘জয় বাবা ফেলুনাথ’ ‘অপরাজিত’; রবীন্দ্রনাথের ‘চোখের বালি’, ‘নৌকাডুবি’; বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের ‘দ্রবময়ীর কাশীবাস’; প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়ের ‘কাশীবাসিনী’; রমাপদ চৌধুরীর ‘নষ্টনারী’, ‘ঋণ’ গল্প, শৈলজানন্দের উপন্যাস ইত্যাদি রচনায় কাশীর অলি-গলি, গঙ্গার প্রকৃতি ও বৈচিত্র্য প্রভৃতি চিত্র নিখুঁত ভাবে উঠে এসেছে।
    ড. শ্রীকান্ত কর্মকারের 'জীবনে ও সৃজনে কাশীতীর্থে শৈলজানন্দ' গ্রন্থটিতে শৈলজানন্দ মুখোপাধ্যায়ের কাশীকেন্দ্রিক উপন্যাসের বিশ্লেষণ ও  কাশী সম্পর্কে একটা সম্যক ধারণা পাওয়া যাবে।

গ্রন্থটি সংগ্রহ করতে চাইলে যোগাযোগ করুন - 73794 11169