লোকসংস্কৃতির অলিন্দে - কঙ্কনু সহিস ও সুকুমার রায়
লোকসংস্কৃতির অলিন্দে গ্রন্থের বিশেষত্ব:
লােকসাহিত্য লােকজীবনের সাহিত্য, লােকসংস্কৃতি লােকমানসের অকৃত্রিম সংস্কৃতি। লােকসাহিত্য সৃষ্টিতে কৃত্রিম প্রয়াস থাকে না, তা লােকমানসের স্বাভাবিক সৃষ্টি। তাই মাটির গন্ধ নিয়ে এই সাহিত্য আপন সত্যে প্রকাশিত, ধুলাে ধারণ করেই লােকসাহিত্য উজ্জ্বল। লােকমানস লােকসাহিত্যে আপনাকে তুলে ধরে। তাই এক্ষণে আমরা লােকজীবনকে খুঁজে পাই নির্ভেজাল সত্যে।
আলােচ্য গ্রন্থে লােকসাহিত্যের বিভিন্ন অঙ্গের আলােচনা করা হয়েছে, বিভিন্ন শাখার পরিচয় তুলে ধরা হয়েছে সত্য ও স্বাভাবিকতায়। লােকগীত, লােকনৃত্য, লােকপরব, লােকশিল্প, লােকসংস্কার, ধাঁধা, প্রবাদ, ছড়া, ব্রতকথা প্রভৃতি আলােচনায় লােকসাহিত্যের রসকুম্ভ পূর্ণের প্রয়াস করা হয়েছে। আলােচনাগুলিতে পরিচিত ছক ও ছবিটিকে যেমন খুঁজে পাওয়া যাবে, তেমনি আলােচিত বিষয়গুলিও নতুন আলাে নিয়ে দেখা দিয়েছে আলােচনার বৃত্তে। এই গ্রন্থে ঝাড়খণ্ড সহ বাংলার বিভিন্ন অঞ্চলের লােকসাহিত্যেরে স্বরূপটি উদ্ভাসিত হয়েছে পদ্মের মতাে পাপড়ি মেলে। আঞ্চলিক লােকসাহিত্য চর্চার সঙ্গে সর্বস্তরিক লােকসংস্কৃতি চর্চার ছক ও ছবিটি তুলে ধরার প্রয়াশ করা হয়েছে। নানা প্রাবন্ধিকের রচনায় বৈচিত্র্যের সমাবেশ ঘটেছে। সেই সঙ্গে লােকমানসের কান্নাহাসির পৌষফাগুনের দেশটিও আপন সত্যে উদ্ঘাটিত হয়েছে। জনজীবনের অকৃত্রিম যাপনবৃত্ত রচনায় লােকসাহিত্য যে কতখানি আপন সত্যের জোরে দাঁড়িয়ে আছে তা আলােচনার বৃত্তে প্রকাশিত হয় প্রতিমুহূর্তে। মাটির ভাষা ও ভাবনাকে সংলগ্ন করে লােকসাহিত্যের বিভিন্ন শাখা স্বকীয় চারিত্রিক বৈশিষ্ট্য তুলে ধরেছে। বিভিন্ন লােকগীত, লােকউৎসব, পালা-পার্বণ, ছড়া, প্রবাদ, ধাঁধা প্রভৃতির আলােচনায় তা স্পষ্টরূপে প্রকাশিত হয়। লােকজীবনের চর্চায় লােকসাহিত্য-সংস্কৃতির এই শাখাগুলি কতখানি সফল তা আলােচনার মাধ্যমেই ধরা পড়ে। বিভিন্ন লেখকেরা বিভিন্ন দৃষ্টিতে লােকসাহিত্য-সংস্কৃতির ব্যাখ্যায় তা খুঁজে পেয়েছেন ও প্রকাশ করার প্রয়াসী হয়েছেন। তাঁদের সম্মিলিত সংগ্রহে সংকলন গ্রন্থটি একটি পূর্ণাবয়ব কলেবর প্রাপ্তি করে লােকসাহিত্যের পরিচায়নে যে প্রস্তুত তা বলাই বাহুল্য। লােকজীবনের। অনুসন্ধানে গ্রন্থটি যদি সফলতার আলাে প্রত্যক্ষ করে, লােকসাহিত্যের চর্চায় যদি সততার পরিচয় দেয় তবেই আমাদের পরিশ্রম সার্থক হবে ও পরিকল্পনার মর্যাদা থাকবে।
এই সংকলনে যে সমস্ত প্রবন্ধগুলি রয়েছে তা হল -
ঝাড়খণ্ডের লােকসাহিত্যের অমূল্য রত্ন-ধাঁধা ড. রত্না রায়।
সাঁওতালি লােককথায় নারী-পাপিয়া মাণ্ডী।
বাঁকুড়া জেলার লোকক্রীড়ার ছড়া-ড. সেখ জাহির আব্বাস।
বাংলা ছড়ায় ইতিহাসের উপাদান অন্বেষণ-গৌরাঙ্গ বিশ্বাস।
বাংলা মৌখিক ছড়ায় শিশুর মনোজগৎ-নুনম মুখােপাধ্যায়।
বীরভূমের কিংবদন্তি-বিপুল পাল।
লােকপ্রবাদ : প্রসঙ্গ বিভিন্ন পেশার মানুষ-সুকুমার রায়।
পৌরাণিক ব্রতকথা ও মঙ্গলচণ্ডীর ব্রত-সমিত দাস।
বাঘ ব্রত : বিস্মৃতির পুনরুদ্ধারে একটি ছেলেদের ব্রত-সাগর সরকার।
ঝাড়খণ্ডের লোকগীতে ফুল ও ফল-ড. গৌতম মুখােপাধ্যায়।
আধুনিক রং-পাঁচালী : একটি ক্ষেত্রসমীক্ষা ভিত্তিক আলােচনা-ড. চঞ্চলকুমার মণ্ডল।
লােকসংস্কৃতির প্রেক্ষিতে বাঁকুড়া জেলার বিবাহ গীত-ড. তাপস মণ্ডল।
ঝুমুরে পুরুলিয়ার কৃষি ও কৃষক-কঙ্কনু সহিস।
মানভূমের টুসু গান ও টুসু সংস্কৃতি-ড. অরূপ কুমার গােপ মণ্ডল।
পূর্ব বর্ধমানের গঙ্গাতীরবর্তী নমঃশূদ্র জাতির বিবাহ, বিবাহের গনি : বিষয়ে ও ভাবনায়-ড. সুশান্ত মণ্ডল।
সাম্প্রতিক কালের ঝুমুর গানে মানভূমের সমাজ ভাষ্য-বিকাশ মাহাত।
ভাওয়াইয়া গানে বিরহের মাঝে আনন্দ-পার্থসারথি রজক।
চেরি-চুন্নীর গনি ও লােক-সাংবাদিকতা-অপু বর্মণ।
কবিগানের বর্তমান স্বরপ ও সংকট-অর্জুন মণ্ডল।
পূর্ব মেদিনীপুরের পসরা পালাগান : লােক-ঐতিহ্যের দর্পণে-জয়শ্রী মান্না।
ডােমনি গান : মালদহের ক্ষয়িষ্ণু লােকসংস্কৃতি-আবু বক্কর সিদ্দিক।
মানভূমের ছৌ নাচ : সংশয়-সংকট ও উত্তরণের এক গাঁথা-সুভাষ মাহাত।
রায়বেশে : বিলুপ্তপ্রায় এক লোকনৃত্যের সন্ধানে-সাথী ত্রিপাঠী।
দক্ষিণ-পশ্চিম সীমান্ত বাংলার নাটুয়া নাচ-রঞ্জিত কুমার সহিস।
মানভূমের লুপ্তপ্রায় সংস্কৃতি : মাছানি নাচ-সুশান্ত রজক।
নাচনি : আনন্দ-বিষাদের সুর-তালে গড়া এক ছন্দময় জীবন-অন্তরা দত্ত।
লোকনাট্য রূপে আলকাপ ও তার বর্তমান অবস্থা-কুশ কুমার সাহা।
বাংলা লােকনাট্যে লেটো-ড. মঙ্গল পাঠক।
বিপন্নতার সম্মুখীন বাংলার লােকনাট্য আলকাপ-ড. সন্তু মণ্ডল।
বাঁকুড়া জেলার মনসা পূজা ও ঝাঁপান উৎসব-ড. সুমন্ত মণ্ডল।
‘নবান্ন’ : এক প্রাচীন লােক ঐতিহ্য ও সংস্কৃতি-নীলমণি সাহা রায়।
মালদহের বিশিষ্ট লােকউৎসব : গম্ভীরা-পূরবী প্রামাণিক।
সীমান্ত বাংলার অনন্য উৎসব : ইদ পরব-পন্টু দেওঘরিয়া।
জীবনের সংস্কার, বিশ্বাস ও আচার : প্রসঙ্গ করম পরব-সুপ্রভাত শটি।
লোকজীবন : উৎসব ও পার্বণ এবং জাওয়া পরব-ড. বর্ণালী গাঙ্গুলী।
বাঁকুড়ার লােকপরব : কেশিয়াড়ার শিবের গান-ড. স্বর্ণকমল গােস্বামী।
সাঁওতালি সমাজের উৎসব : বদনা-গঙ্গা হেমব্রম।
বাঙালি জীবনে উৎসবের প্রাসঙ্গিক-গৌরাঙ্গ সরকার।
প্রকৃতি পাঠে আদিবাসীদের বাহা পরব : যুগোপযােগী এক ঐতিহ্যের সন্ধানে-প্রণব কুমার মাইতি।
মেদিনীপুর জেলার গয়না বড়ি-মৃন্ময় কুমার মাহাত।
মৃৎশিল্প : ঐতিহ্যের পুনরুদ্ধার-ড. রণজিৎ কুমার বাউলিয়া।
মেদিনীপুর জেলার মাদুর শিল্পের আত্মকথা-অবিনাশ কোচ।
ছৌ নাচের মুখােশ : শিল্প ও বিপণন-পূজা কর্মকার।
বঙ্গ সংস্কৃতির অঙ্গ আলপনা-সৃঞ্জন দে সরকার।
রাজবংশী উপজতির লােকসংস্কৃতি : প্রান্তীয় দক্ষিণ অঞ্চল-সুশান্ত মণ্ডল।
মেদিনীপুর জেলার লােকবিশ্বাস ও লােকসংস্কারের একটি নিরীক্ষা-মানস আচার্য্য।
বরাক উপত্যকার মনসা পূজা : লােকসংস্কৃতি ও লােকবিশ্বাস - পিংকি বর্মণ।
উত্তর চব্বিশ পরগণা জেলার পাটলীখানপুর অঞ্চলের কৃষকসমাজে দেবী লক্ষ্মী-যাদব মানা |
এক মানবীর দেবীতে উত্তরণ: প্রসঙ্গ ভাদু -বর্ণালী মাহাত |
কোচবিহার জেলার লৌকিক দেবতা : মাসান - আতোয়ার হােসেন |
লেখক পরিচিতি
গ্রন্থটি সংগ্রহ করতে চাইলে যোগাযোগ করুন - 7908836735
গ্রন্থটির পৃষ্ঠা সংখ্যা - ৪১৪
গ্রন্থটির মূল্য - ৬০০ টাকা

